ওজন একেবারে যেমন কমে যাওয়া ভালোনা তেমনি ওজন মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়াও যুকিপুর্ণ। এমন হওয়া উচিৎ যা উচ্চতা ও বয়সের সাথে সামজ্জস্যপুর্ন, আর এটাই সবার কাম্য।
ওজন বাড়ার জন্য মূলত দায়ী খাদ্যাভ্যাস ও দৈন্দন্দিন কাজকর্মে (ব্যায়াম) অনিয়ম, অতিরিক্ত পরিমান ফ্যাটযুক্ত খাবার গ্রহন, junk food ও কোমল পানীয় বেশি পরিমান গ্রহন করা।
অতিরিক্ত ওজন বাড়ার সাথে শরিরে বাসা বাধে নানা ধরণের জটিল রোগ, স্বাভাবিক জীবন যাপনে আসে জটিলতা, যা কারও কাম্য না।
আমাদের আজকের আলোচনা কিভাবে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক ও সুন্দর সাস্থের অধিকারী হওয়া যায় সে বিষয়ে কিছু দিক নির্দেশনা তুলে ধরা।
১। সকালের নাস্তা বাদ না দেওয়াঃ
মনে রাখবেন সকালের নাস্তা খাওয়া বাদ দিলে সাস্থ কমবেনা। শুধু শুধু অগুরুত্বপূর্ণ nutrients গ্রহন থেকে বঞ্চিত হবেন ও নিজেকে খুদার্থ মনে করবেন।
২। নিয়মিত সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহন করাঃ
নিয়মিত সঠিক সময়ে কাদ্য গ্রহনে অভ্যস্ত হওয়া দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করবে। কারণ সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহন না করা মানে অন্য নাস্তার প্রতি আগ্রহ বাড়া।
৩। বেশি পরিমানে ফল ও সবজি গ্রহন করাঃ
সবজি ও ফলে ক্যালরি ও ফ্যাট কম থাকে এবং ফাইবার বেশি থাকে যা ওজন কমানোর জন্য বিষেশ ভূমিকা পালন করে পাশাপাশি প্রচুর পরিমান ভিটামিন ও মিনারেল শরির কে balance রেখে সঠিক পুষ্টি যুগিয়ে রোগ খমতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৪। দৈনিক নিয়মিত পরিশ্রম করাঃ
মনে রাখবেন পরিশ্রম (ব্যায়াম) স্বাস্থ কমানো ( weight loss) এর মুল চাবিকাঠি। পরিশ্রম অতিরিক্ত ফ্যাট ও ক্যালরি কমাতে সাহায্য করে, পাশাপাশি শরিরকে খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহন করাতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৫। নিয়মিত সঠিক পরিমান পানি পান করাঃ
নিয়মিত সঠিক পরিমান পানি পান করা অতিরিক্ত ক্যালরি কমাতে সাহায্য করে।
৬। ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য বেশি গ্রহন করাঃ
যে সমস্ত খাদ্যে বেশি পরিমান ফাইবার আছে তা গ্রহন করলে শরিরের ঘাটতি গুলো পুরন হবে ফেলে ফ্যাট যুক্ত খাবারের প্রতি চাহিদা কমবে।
৭। ফল ও সব্জির গুনাগুন সম্পর্কে ধারণা থাকাঃ
কোন ফল ও সবজি তে কি পরিমান ক্যালরি আছে এবং কি পরিমান খেতে হবে সে সম্পর্কে ধারনা থাকলে স্বাস্থ ব্যালান্স রাখা অনেকটাই সহজ হয়।
৮। কোন খাদ্য কে খাদ্য তালিকা থেকে বাদ না দেওয়াঃ
স্বাস্থ কমানোর জন্য কোন খাদ্যকে খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। এতে করে খাদ্যের গুনাগুন থেকে বঞ্চিত হওয়া ও সে খাদ্যের প্রতি চাহিদা বেশি বেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন লাভ হয়না।
উত্তম হল সব কিছুতে ব্যালান্স রাখা এবং নিজের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অনুধাবন করা।
৯। Junk food পরিহার করাঃ
যে সব খাদ্যে nutritional value বা protein কম থাকে সে সব খাদ্যে ফ্যাট বেশি থাকে, তাই সে সব খাদ্য কম গ্রহনে অভ্যস্ত না হওয়াই ভালো। চকলেট, বিস্কুট, চিপ্স, মিস্টি, ও কোমল পানীয় এর মধ্যে অন্যতম।বরং এসবের পরিবর্তে বাসায় তৈরি করা স্বাস্থকর নাস্তা, ফল গ্রহন করা অনেক ভালো।
Also you can check out Junk Food list
১০! এলকোহল গ্রহন না করাঃ
এলকোহল জাতীয় পানীয় ওজন বাড়ার জন্য বেশি দায়ী।
১১। নিজেকে ব্যস্ত রাখাঃ
- কায়্যিক সাধ্য পরিশ্রম ও ব্যায়াম করুণ
- কাজ না থাকলে বিশ্রাম এর পাশাপাশি হাটা চলা-ফেরা করুণ
- বন্ধু-বান্ধব্দের সাথে আড্ডায় মেতে উঠুন
- যে কোন ধরণের খেলা খেলতে পারেন
- বাইরে বেরুতে ইচ্ছে না করলে বা কায়্যিক পরিশ্রম করতে ইচ্ছে না করলে কিছু সময় বই পড়ুন, টিভি দেখুন
- নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করুন যাতে করে প্রয়জনের চেয়ে অতিরিক্ত ঘুমের অভ্যাস তৈরি না হয়
আর এসব অভ্যাসে অভ্যাসিত হলে যা উপকার হবে
- অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি কমাতে সাহায্য করবে
- রক্তে গ্লুকোনাল বাড়তে বাধা দিবে
- পেশিকে মজবুত করতে সাহায্য করবে
- পেশির সহনশিলতা বৃদ্ধি করবে
- টিস্যুতে অক্সিজেন পৌছাতে সাহায্য করবে
- Cardiovascular জাতীয় রোগ ( ব্লাড প্রেসার হার্ট এটাক্ট, ডায়াবেটিস ) থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে
- শারিরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে
মূল কথা সম্পুর্ন শরির কে ব্যালান্স রেখে সু-স্বাস্থের অধিকারী করবে
১২। রুটিন তৈরি করাঃ
Weight Loss এর জন্য সবচেয়ে ভালো দিক হল মনে মনে রুটিন তৈরি করে নেওয়া। যা দৈনিক কাজকর্ম ও খাদ্যাভ্যাস এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।
১৩। কোমল পানীয় গ্রহনে সহনশীলতাঃ
কোমল পানীয় গ্রহনে যথাযথ নিয়ম মেনে চলতে হবে। কারণ এই সব পানীয় কিন্তু ওজন বাড়ার জন্য অনেকটাই দায়ী। Also you can check out
Top 10 Foods Highest in Carbohydrates (To Limit or Avoid)
১৪। অতিরিক্ত ঘুম বর্জনঃ
সঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে উঠা যেমন স্বাস্থের জন্য উপকারী তেমনি অনিয়ম টাও কিন্তু অনেক টাই ক্ষতিকর। বিশেষ করে স্বাস্থ ব্যালান্স রাখার ক্ষেত্রে।
১৫। খাদ্য গ্রহনে ছোট প্লেট ব্যবহারঃ
অনেকেই বলে থাকেন খাদ্য গ্রহনে ছোট প্লেট ব্যবহার wight loss এর জন্য বিশেষ ভুমিকা রাখে।

No comments