ঠোটের কালো ভাব দূর করার জন্য ১০ টি বিশেষ প্রাকৃতিক উপাদানঃ ব্যবহারে সফলতা - FitisteAn

Share:

  • প্রত্যেকেই চায় নরম ও গোলাপি ঠোট।
  • সুন্দর ঠোট হাসিকে করে আরো সুন্দর।
  • কিন্তু ঠোটের স্বাভাবিক রঙ যখন নষ্ট হয়ে কালো বা কফি রঙ ধারণ করে তখন হাসির সৌন্দর্য হারিয়ে যায়।

অনেকের ঠোট প্রকৃত রঙ নষ্ট হয়ে চা বা কফি রঙ ধারণ করে পাশাপাশি খশখশে ও সুস্ক হয়ে যায়। 
এর কারণ হল
  • সরাসরি সুর্যের আলো।
  • খাদ্য গ্রহনের পর চর্বি বা তৈলাক্ত পদার্থ আটকে যাওয়া।
  • ধুমপান করা।
  • অতিরিক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করা।
  • নিম্নমানের লিপস্টিক ব্যবহার করা।
  • ঠোটের সঠিক পরিচর্যা না করা।

বিভিন্ন ভাবে ঠোটের কালো ভাব দূর করা যায়, তবে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে কালো ভাব দূর করা যায়, পাশাপাশি এ সবের ব্যবহার ঠোটকে স্বাস্থসম্মত করে।

আমাদের আলোচ্য বিষয় কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে ঠোটের কালোভাব দূর করে উজ্জল ও স্বাস্থ্যগত করা যায়।

নিম্নে ১০টি প্রাকৃতিক উপাদানের নাম, ব্যবহার ও উপকারীতা আলোচনা করা হল


১। এমোন্ড তেল (Almond Oil)

ব্যবহারবিধিঃ
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে কয়েক ফোটা Almond Oil নিয়ে ঠোটে আলতো ভাবে মালিশ করে সকাল অবধি রাখতে হবে।
এভাবে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করতে হবে।

উপকারিতাঃ
Almond Oil এর প্রাকৃতিক নমনীয় উপাদান ঠোটের উপরের কালো স্তর দূর করে ঠোটকে নরম ও পুনর্গঠিত করতে সাহায্য করে, এবং ঠোটের প্রকৃত রঙ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

২। রোজ ওয়াটার (Rose Water)

ব্যবহারবিধিঃ
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে কটনবল Rose Water এ ভিজিয়ে নিয়ে ঠোটে লাগাতে হবে।

উপকারিতাঃ
Rose Water ঠোটের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক করতে ও পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে। এটি ঠোটকে উজ্জ্বল করে এবং নতুন সেল তৈরি করতে সাহায্য করে।

৩। শসা (Cucumber Juice)

ব্যবহারবিধিঃ
শসা ব্লেডিং করে জুস তৈরি করে নিয়ে ফ্রিজে রেখে হালকা ঠান্ডা করে নিতে হবে। এর পর ঠান্ডা জুস কটনবলে ভিজিয়ে ঠোটের লাগাতে হবে।
ঠোটে লাগানোর ১৫-২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে দৈনিক একবার ব্যবহারে সঠিক উপকার পাওয়া যাবে।

উপকারিতাঃ
শষা ঠোটের উপরের কালো স্তর দূর করে ঠোটকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে, ঠোটকে শিতল করে এবং পুষ্টি যোগায়।

৪। বেকিং সোডা (Baking Soda)

ব্যবহারবিধিঃ
এক চা-চামচ বেকিং সোডা পরিমান মত পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এরপর তা ঠোটে লাগিয়ে ৫ মিনিট রাখার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

উপকারিতাঃ
ঠোটের কালো ভাব অনেকসময় মৃত্যু সেল থেকে হতে পারে, বেকিং সোডা মৃত্যু সেল থেকে তৈরি হওয়া উপরের খশখশে ভাব দূর করে ঠোটকে নরম ও গোলাপি রঙ এর করতে সাহায্য করে।

সাবধানতাঃ
বেকিং সোডা ব্যবহারের পর ঠোটে অলিভওয়েল লাগাতে ভুলবেন না যেন! কারণ বেকিং সোডা ব্যবহারে ঠোট শুস্ক হতে পারে।

৫। ভিনেগার (Apple Cider Vinegar)

ব্যবহারবিধিঃ
এক চা-চামচ পানি ও এক চা-চামচ ভিনেগার (Apple Cider Vinegar) মিশিয়ে কটনবল দিয়ে ঠোটে লাগাতে হবে। লাগানোর পর ১০-১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
এভাবে প্রতিদিন দিনে এক বার ব্যবহার করা ভালো।

উপকারিতাঃ
Apple Cider Vinegar এ প্রাকৃতিক ভাবে Alpha Hydroxy Acid আছে যা ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে, তাই এটি ব্যবহারে ঠোটের প্রকৃত রঙ ফিরে আসে।

সাবধানতাঃ
ভিনেগার বেশি সময় ঠোটে লাগিয়ে রাখা উচিৎ না, এর এসিড ক্ষতি করতে পারে।

৬। এলয়ভেরা জেল (Aloe Vera)

ব্যবহারবিধিঃ
সামান্য পরিমান Aloe Vera আঙুল এ নিয়ে ঠোটে লাগাতে হবে, এভাবে ১০ মিনিট রাখার পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
দৈনিক একবার ব্যবহার করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

উপকারিতাঃ
Aloe Vera তে Aloesin থাকার কারণে তা ঠোটের কালো ভাবকে দূর করে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। অনুরুপ ভাবে Aloe.Vera ঠোটকে নবজীবন দান করে এবং পুষ্টি যুগিয়ে ঠোটকে স্বাস্থবান করে।

৭। গ্লিসারিন (Glycerin)

ব্যবহারবিধিঃ
প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে গ্লিসারিন পরিমানমত কটন বল বা কটন সব এ নিয়ে ঠোটে লাগাতে হবে। এভাবে দৈনিক ব্যবহারে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

উপকারিতাঃ
ঠোটের শুকনো ভাবের কারণে উপরে যে খশখশে ভাব তৈরি হয় তা দূর করে moisture যুগিয়ে ঠোটকে কোমল ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

৮। মধু ও লেবুর মিশ্রন (Lemon and Honey)

ব্যবহারবিধিঃ
পরিমান মত মধু ও লেবুর রস একসাথে মিসিয়ে ঠোটে লাগাতে হবে। এভাবে আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা রাখার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে দিনে কয়েকবার ব্যবহারে ঠোটের উপরের কালোভাব সহজেই দূর করা সম্ভব।

উপকারিতাঃ
এটি ঠোটের কালোভাব দূর করার জন খুবেই উপযোগী চিকিৎসা। লেবুর এসিড ঠোটের টান টান ভাব দূর করতে সাহায্য করে এবং মধু moisture করে ঠোটকে গোলাপি করতে সাহায্য করে।
এই মিশ্রন ফ্রিজে সংরক্ষণ করেও ব্যবহার করা যায়।

৯। নারিকেল তেল (Coconut Oil)

ব্যবহারবিধিঃ
প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে সামান্য পরিমান নারিকেল তেল আঙুল এ নিয়ে ঠোটে লাগাতে হবে।
যেকোন সনয় ব্যবহার করা যায় তবে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

উপকারিতাঃ
নারিকেল তেলে প্রচুর পরিমান Faty Acid কারণে তা ঠোটকে ভেজা রাখতে সাহায্য করে এবং ঠোটকে নরম ও গোলাপি করতে সাহায্য করে।

১০। বিটরুট (Beetroot)

ব্যবহারবিধিঃ
বিটরুটের কিছু পরিমান কেটে সামান্য পানি দিয়ে ভালো ভাবে পেস্ট করে নিতে হবে, এরপর তা ফ্রিজে রেখে হালকা ঠান্ডা বিটরুট ঠোটে লাগিয়ে কয়েক মিনিট রাখার পর ধুয়ে ফেলতে হবে।
এভাবে দৈনিক একবার ব্যবহারে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

উপকারিতাঃ
  • বিটরুটের প্রাকৃতিক উপাদান ঠোটের টান টান ভাব দূর করে।
  • ঠোটকে উজ্জ্বল করে।
  • ঠোটকে পরিস্কার রাখতে সাহায্য করে।
  • ঠোটকে প্রানবন্ত ও সাস্থবান রাখতে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত ব্যবহারে ঠোটের গোলাপি ভাব চলে আসে।

কিছু কথাঃ
শুধু যে এসব উপাদান ব্যবহার করবেন তা নয়, পাশাপাশি ঠোটের সঠিক পরিচর্যাও জরুরী।

No comments