জজবা তেলের উপকারিতাঃ সুন্দর ত্বক ও চুলের জন্য ১০ টি বিশেষ ব্যবহার - FitisteAn

Share:

  • জজবা তেলে বিশেষ কিছু ভিটামিন আছে যা ত্বকের জন্য খুবেই উপকারী।
  • জজবা তেল দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ত্বককে moisture রাখতে সাহায্য করে।
  • এর ভিটামিন ই, বি ও মিনারেল ত্বককে পুনর্গঠিত করে ত্বককে সুন্দর ও কোমল করতে সাহায্য করে।
  • এর ভিটামিন ই চুল গজাতে সাহায্য করে, স্কাল্পে প্রয়োজনীয় ভিটামিন যুগিয়ে চুলকে শক্ত ও ঝলমলে করে এবং খুশকি মুক্ত করে।

জজবা তেল সৌন্দর্য চর্চায় অনন্য, যা জজবা নামক বীজ থেকে সংগ্রহ করা হয়। জজবা তেল ত্বককে অতিরিক্ত টস্কিন থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। আর ত্বক যখন অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে যায় তখন জজবা তেল রুক্ষতা দূর করে ত্বককে মসৃন করতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে।

জজবা তেলে ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন যেমন ভিটামিন ই ও বি এবং মিনারেল যেমন জিনক ও কপার প্রচুর পরিমানে  পাওয়া যায়। বিশেষ করে বয়ষ বাড়ার সাথে সাথে ত্বক শুস্ক ও নিস্তেজ হয়ে যায় এবং ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় সেবুম প্রচুর পরিমানে তৈরি করতে ব্যর্থ হয় তখন জজবা তেল ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জজবা তেল চুলের জন্য সমান ভাবে উপকারী, এর ভিটামিন ই সহ অন্যন্য উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং স্কাল্পকে পুষ্টি যুগিয়ে খুশকিমুক্ত করে।


মূল কথা হল জজবা তেল ত্বক ও চুলের যত্নে প্রাকৃতিক supplement হিসেবে কাজ করে।

নিম্নে ত্বক ও চুলের যত্নে জজবা তেলের ১০ টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হল যা হয়ত অনেকেই জানেন না।

১। মেকাপ তোলার জন্যঃ

জজবা তেলের সামগ্রিক গুন বিচারে এটি মেকাপ তোলার জন্য খুবেই উপযোগী। এর ব্যবহার মেকাপের ক্ষতিকর উপাদান থেকে ত্বককে মুক্ত করে পুনরায় moisture করতে সাহায্য করে।

ব্যবহারবিধিঃ পরিস্কার কাপড় বা কটনবলে কয়েক ফোটা জজবা তেল মিশিয়ে মুখ ও চোখের চারদিক আলতো করে পরিস্কার করে নিতে হবে।

২। শুস্ক ত্বকের জন্যঃ
রুক্ষ ও শুস্ক ত্বকের জন্য জজবা তেল বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যা ত্বকরে গভিরে টিস্যু পর্যন্ত পৌছে ত্বককে moisture করে শুস্ক ও রুক্ষ হতে বাধা দেয়।

বিশেষ করে এর প্রাকৃতিক উপাদান শেভ করার পর ত্বক যখন শুস্ক হয় তখন এর ব্যবহার ত্বককে শুস্কতা থেকে রক্ষা করে।

৩। চুলের যত্নেঃ
  • জজবা তেলের উপাদান বিশেষ করে ভিটামি ই চুলকে পুষ্টি যুগিয়ে শক্ত করতে সাহায্য করে।
  • স্কাল্পকে পুষ্টি যুগিয়ে চুল বাড়তে ও চুলকে হেলদি করতে সাহায্য করে।
  • এটি কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে চুলকে ঝলমলে ও মোলায়েম করতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিনের ধুলো-ময়লায় রুক্ষ হয়ে যাওয়া চুলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করে।
  • স্কাল্পে ভালো ভাবে মেসেজ করলে খুশকি দূর হয়।
  • নিয়মিত ব্যবহারে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
৪। ত্বকের moisture ধরে রাখেঃ
জজবা তেল ব্যবহারে ত্বকের প্রতিদিনকার moisture ধরে রাখে। বিশেষ করে বাইরের ধুলো-ময়লা  লাগার কারণে ত্বকে যে স্তর তৈরি হয় তা থেকে ব্লাকহেড, মেসতা দেখা দেয়, জজবা তেল এসব থেকে রক্ষা করে সুন্দর ত্বক উপহার দেয়।

৫। বলি (wrinkle) রেখা দূর করতেঃ
বয়ষ বাড়ার সাথে সাথে ত্বকে বিভিন্ন সাইন দেখা দেয়, বিশেষ করে বলিরেখা (wrinkle), হাসির দাগ (fine line) জজবা তেলের রক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামি  এসব সাইন দূর করতে সাহায্য করে।

৬। প্রাকৃতিক sunscreen হিসেবেঃ
জজবা তেলকে সাধারণ sunscreen এর পরিবর্তে সম্পুর্ন শরিরে ব্যবহার করা যায়। এবং এর ব্যবহার প্রতিদিন কসমেটিস্ক ব্যবহারের ফলে যে ক্যামিক্যালের প্রভাব বিস্তার করে তা থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

৭। ত্বকের জন্য মানানসইঃ
জজবা তেল তৈলাক্ত পদার্থের ন্যায় হওয়ার কারণে তা সহজেই ত্বকের সাথে মানিয়ে নেয়, ফলে ত্বকের সামগ্রিক উন্যতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৮। সব রকম ত্বকের জন্য উপযোগীঃ
সাধারণত তৈলাক্ত ত্বকে সব ধরণের কসমেটিস্ক ও তেল ব্যবহার উপযোগী হয়না। মূলকথা যাদের সংবেদনশীল ত্বক তাদের জন্য রুপচর্চায় জজবা তেল বিশেষ ভাবে উপযোগী।

৯। এন্টি-এজিং হিসেবেঃ
বয়ষ বাড়ার সাথে সাথে মুখ ও শরিরের ত্বকে যে সাইন দেখা দেয় তা প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। Dermatological রিপোর্টে প্রমানিত হয়েছে যে, জজবা তেল ত্বকের পুরাতন সেল ধংস করে নতুন সেল তৈরি করে ফলে ত্বক পুর্বের রূপ ফিরে পায়।

১০। জজবা তেলের পুষ্টি ত্বক সহযে গ্রহন করতে পারেঃ

জজবা তেল অন্যন্য তেলের চেয়ে সহনশীল হওয়ার কারণে ত্বক এর পুষ্টি সহযে গ্রহন করতে পারে। ফলে ত্বকে প্রচুর পরিমান সেবুম তৈরি হয় যা ত্বকের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

No comments