- ফল ও সবজিতে প্রচুর পরিমান গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন মিনারেল ও ফাইবার থাকে।
- প্রচুর পরিমান ফল ও সবজি গ্রহন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হার্ট এটাক্ট সহ অনেক রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
- নিয়মিত ফল ও সবজি গ্রহন প্রতিদিনের পুষ্টি ঘাটতি পুরুন করে শরীর কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন ফল ও সবজি খাওয়া স্বাস্থের জন্য খুবেই ভালো। বিভিন্ন রকম ফল ও সব্জিতে বিভিন্ন রকন পুষ্টি থাকে।
ফল ও সবজি সরীরের জন্য খুবেই উপকারী, বিশেষ করে Diet Control এ খুবেই কার্যকরী। ফল ও সবজি প্রাকৃতিক ভাবেই প্রচুর পরিমান ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করে যা শরীরের জন্য খুবেই উপকারী ও অত্যাবশ্যকীয়। অনুরুপ ভাবে ফল ও সবজি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শরীর কে সুস্থ ও সবল রাখার জন্য ফল ও সব্জির বিকল্প নেই। প্রতিদিন কয়েক পদের ফল ও সবজি খেলে শরীরে প্রচুর পরিমান পুষ্টি ও মিনারেল সরবরাহ হয়ে থাকে। ফল ও সব্জিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ সি ই ও অন্যান্য উপাদান যেমন ম্যাগনেসিয়াম, জিনক, ফসফরাস, ফলিক এসিড সহ অনেক উপাদান বিদ্যমান থাকে।
অনুরুপ ভাবে ফল ও সব্জিতে সুগার, ফ্যাট, সল্ট সহ চর্বিযুক্ত উপাদান কম থাকে, বিপরীতে ফাইবার বেশি পরিমান থাকে যা স্বাস্থের জন্য খুবেই উপকারী। পাশাপাশি ফল ও সবজি সঠিক পরিমান গ্রহন অতিরিক্ত ফ্যাট কমিয়ে সঠিক ওজন নিয়ন্ত্রন করে, শরীরে কোলেস্টরেল এর পরিমান কমায়, ব্লাড প্রেশার থেকে রক্ষা করে, ডায়াবেটিস, স্ট্রক, হার্ট এটাক্ট, ক্যান্সার সহ অনেক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
কিছু ফল স্বাস্থের জন্য খুবেই উপকারী
১। লেবু জাতীয় ফলঃ
- কমলা লেবু
- জাম্বুরা লেবু
- বাতাবি লেবু
- আমলকী
- জলপাই
- মান্ডারিয়ান
২। বিচিযুক্ত ফলঃ
- বরই
- অমৃতকল্প (Nectarines)
- এপ্রিকোট (Apricot)
৩। গ্রীষ্মকালীন ও বেমৌসুমী ফলঃ
- কলা
- আম
৪। বেরি জাতীয় ফলঃ
- স্ট্রবেরি (Strawberries)
- রাস্পবেরি (Raspberries)
- ব্লুবেরি (Blueberries),
- Kiwifruit
- Passion fruit
৫। তরমুজ জাতীয় ফলঃ
- তরমুজ
- শিলা তরমুজ
- মধুবাজ তরমুজ।
এছাড়া
- টমেটো
- এভাকাডো (Avocado)
কিছু সবজি শরীরের জন্য খুবেই উপকারী
১। সবুজ শাক জাতীয় সব্জিঃ
- সবুজ শাক
- পালংশাক
- লতা শাক
- পুইশাক
- সিলভারবিট (Silver beet)
২। কফি জাতীয় সব্জিঃ
- বাধা কফি
- ফুলকফি
- ব্রাসেল (Brassel)
- স্প্রাউট (Sprout)
- ব্রকলি (Broccoli)
৩। শাস যুক্ত সব্জিঃ
- কুমড়া
- শষা
- ধুন্দুল
৪। মাটিতে জন্মানো সব্জিঃ
- আলু
- মিস্টি আলু
- মিঠে আলু
৫। পেয়াজ জাতীয়ঃ
- পেয়াজ
- রশুন
সিম বা ডাল জাতীয় খাদ্য প্রকৃত পক্ষেই প্রচুর পরিমানে পুষ্টি সরবরাহ করে। স্বাস্থ উন্নতিতে ও টক্সিন নিয়ন্ত্রনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১। সয়া জাতীয়ঃ
- মটরশুঁটি
- সয়াবিন
২। ডাল জাতীয়ঃ
- ছোলা
- মসুর ডাল
- খেসারি ডাল
- মুগ ডাল
৩। শুকনো মটরশুঁটি জাতীয়ঃ
- শুকনো সিম বিচি
- শুকনো মটরশুঁটি
৪। তাজা মটরশুঁটি জাতীয়ঃ
- হরিয়ান মটরশুঁটি
- কাচা ছিম
- মাখন
- কাট সিম
- তুষার ডাল
এছাড়াও প্রতিটি সবজি ও ফলে কিছু পরিমান হলেও কোন না কোন পুষ্টি বিদ্যমান, তাই সব রকম ফল ও সবজি নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখা উচিৎ।
বিভিন্ন রঙ জাতীয় ফল ও সব্জিতে বিভিন্ন রকম সাস্থ উপকারিতা
রঙ এর ভিন্নতায় ফল ও সব্জিতে বিভিন্ন রকম পুষ্টি বিদ্যমান থাকে এবং বিভিন্ন রকম রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
লাল সবজি ও ফলঃ
যেমন টমেটো ও তরমুজ জাতীয় ফল ও সব্জিতে প্রচুর পরিমান Lycopene বিদ্যমান। যা প্রস্টেট ক্যান্সার ও হার্টের রোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সবুজ সবজি ও ফলঃ
যেমন পালংশাক ও পাতাকপি জাতিয় ফল ও সব্জিতে প্রচুর পরিমান হরমন ও Zeaxanthine (বয়ষ বাড়ার সাথে থাকে চোখের যে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় Zeaxanthine সেই সব সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
নিল ও রক্তবর্ণ সবজি ও ফলঃ
যেমন ব্লুবেরি ও বেগুন জাতীয় ফল ও সব্জিতে Anthocyanins বিদ্যমান থাকে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
সাদা ফল ও সব্জিঃ
যেমন ফুলকপি যাতীয় ফল ও সবজি Sulforaphane সমৃদ্ধ, এবং সম্ভবত ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।
কিছু কিছু ফল ও সবজি রান্না করে খাওয়া হয় আবার কিছু কাচাই খাওয়া হয়, তবে কিছু সবজি আছে যে সব বেশি রান্না করলে পুষ্টিগুন কমে যায়। তাই সবজি জাতীয় খাদ্য হাল্কা রান্না করে খাওয়া ভালো।
দৈনিক ফল ও সবজি গ্রহনের পরিমান
বিভিন্ন ফল ও সবজি বিভিন্ন রকম পুষ্টি সরবরাহ করে। অনেক Nutrients দের মতে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য দৈনিক ৫ ধরণের ফল ও ২ ধরণের সবজি গ্রহন করা উচিৎ।
সাবধানতাঃ
স্বাস্থের জন্য যেমন প্রচুর পরিমান ফল ও সবজি খাওয়া জরুরী তেমনি সতর্কতাও প্রয়োজন
ফল ও সবজি দ্রুত বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ার জন্য প্রচুর ক্যামিক্যাল ব্যবহার করা হয় এবং বেশিদিন সংরক্ষনের জন্য ফরমালিন জাতীয় ক্যামিক্যাল ব্যবহার করা হয়। এসব ক্যামিক্যাল শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তাই ফল ও সবজি খাওয়ার আগে ক্যমিক্যাল নাশক মেডিসিন ব্যবহার করা, ঠান্ডা পানিতে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখা ও ভালো ভাবে রান্না করে খাওয়া উচিৎ।

No comments